দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১২ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
কোথাও বইয়ের পসরা, কোথাও আবার এখনো চলছে হাতুড়ি-করাতের শব্দ—নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় কয়েকটি স্টল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। ফলে মেলার পূর্ণ আবহ পেতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
শুক্রবার দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ ঘুরে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশের গেট প্রায় জনশূন্য। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করলেও প্রবেশকারী দর্শনার্থী ছিলেন হাতে গোনা। টিএসসি সংলগ্ন গেট দিয়ে কিছু মানুষ ঢুকলেও ভেতরে ছিল না উল্লেখযোগ্য ভিড়। আনসার সদস্যদের অনেককে অবসর সময় কাটাতে দেখা গেছে। বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে দেখা যায়নি। তবে কাছেই বাংলা একাডেমি-র প্যাভিলিয়নে দুই-একজন পাঠক বই ঘেঁটে দেখছিলেন।
মেলার ভেতরে অগ্রসর হলে চোখে পড়ে কয়েকটি স্টলে এখনো কাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। কেউ কাঠ কাটছেন, কেউ ফ্রেম জোড়া লাগাচ্ছেন। যদিও অধিকাংশ প্রকাশনী বই সাজিয়ে প্রদর্শনী শুরু করেছে, তবু কিছু স্টল এখনো অসম্পূর্ণ। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন খাবারের স্টলগুলোর প্রস্তুতিও শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন, পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে অধিকাংশ স্টলেই ছিল ক্রেতাশূন্যতা। তবে কয়েকটি জনপ্রিয় প্রকাশনীর সামনে সীমিতসংখ্যক পাঠককে বই দেখতে ও কিনতে দেখা গেছে। প্রকাশনীগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, রমজান মাস হওয়ায় দিনের বেলায় পাঠক উপস্থিতি কম। সন্ধ্যার পর ভিড় কিছুটা বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন।
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে এবারের বইমেলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান।
এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান; ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে রয়েছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকছে ‘শিশুপ্রহর’। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
মেলার বিন্যাস আগের মতো থাকলেও মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বের হওয়ার পথ কিছুটা পরিবর্তন করে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে চারটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা হয়েছে। খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সাজানো হচ্ছে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুম ও প্রয়োজনীয় সেবাসুবিধা চালু রয়েছে। রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মেলায় বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ছাড়া) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে প্রবেশ করা যাবে না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিনেও বইমেলা ছিল নিরিবিলি ও অপেক্ষাকৃত প্রাণহীন। আয়োজক ও প্রকাশকদের আশা, রমজানের মধ্যভাগ পেরোলে বাড়বে পাঠকসমাগম, ফিরবে চেনা উৎসবমুখরতা।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team