দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
আপডেট: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
রাসেল মিয়া,একসময় প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরে তিনি বেছে নেন কৃষিকে। বাবার গড়ে তোলা ছোট্ট একটি ফলের বাগানকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন পথচলা। পরিশ্রম, ধৈর্য, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সঠিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে আজ তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একজন সফল ফলচাষি ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার এই সাফল্য শুধু নিজের জীবনই বদলে দেয়নি, এলাকার অনেক তরুণের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া মৃধাকান্দি এলাকার বাসিন্দা রাসেল মিয়া ২০২১ সালের শেষ দিকে প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে বাবার গড়ে তোলা দেড় বিঘার ফলের বাগানের দায়িত্ব নেন। শুরুতে নানা প্রতিকূলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পেলেও তিনি হতাশ হননি। ইন্টারনেট থেকে আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পরিচর্যার কৌশল শিখে সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করেন। তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে বাগানের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ বিঘায়।
বর্তমানে তার বাগানে পেয়ারা, মালটা, কমলা, ড্রাগন ফল ও বিভিন্ন জাতের লেবুর চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়েছে। বড় আকার, মিষ্টি স্বাদ ও নিরাপদ উৎপাদন পদ্ধতির কারণে তার বাগানের পেয়ারার চাহিদা ব্যাপক। বর্তমানে প্রতি কেজি পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি বাগান থেকেই খুচরা বিক্রির ব্যবস্থা থাকায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে গাছ থেকে নিজের হাতে ফল সংগ্রহ করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাগানে ফল কিনতে আসা ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন,রাসেল ভাইয়ের বাগানের পেয়ারা ফরমালিনমুক্ত ও সুস্বাদু বলে শুনে এখানে এসেছি। বাগান ঘুরে দেখলাম, পরিবেশও খুব সুন্দর। গাছ থেকে নিজ হাতে তাজা পেয়ারা পেড়ে কিনে নেওয়ার সুযোগ সত্যিই আনন্দের। এমন নিরাপদ ও মানসম্মত ফল সহজে পাওয়া যায় না।
সফলতার বিষয়ে রাসেল মিয়া বলেন,দেশে ফিরে বাবার বাগানটিকেই নিজের স্বপ্ন হিসেবে নিয়েছিলাম। ইন্টারনেট থেকে আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি শিখে নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। আল্লাহর রহমতে এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি খুচরা বিক্রিও করছি। সরকারি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ফল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে শিবচর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ৪২ হেক্টর জমিতে পেয়ারা, ৩ হেক্টর জমিতে মালটা এবং ১ হেক্টর জমিতে কমলার আবাদ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান বলেন,কৃষকদের সার্বক্ষণিক কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের চারা সরবরাহ এবং কৃষিঋণের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাস থেকে ফিরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফল চাষে রাসেল মিয়ার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি শুধু নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনই করেননি, এলাকার তরুণদের মাঝেও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন।
এলাকার স্থানীয়দের মতে,রাসেল মিয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার,পরিকল্পিত চাষাবাদ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষিতেও সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি যে সফলতার নজির স্থাপন করেছেন, তা দেশের অন্যান্য তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team