দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ এএম
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ এএম
নিজস্ব প্রতিবেদক, দক্ষিণের খবরঃ
প্রায় ১২ বছর আগে প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান হাবিবুর রহমান ও জরিনা খাতুন দম্পতি। এরপর মাদবরেরচর ইউনিয়নের চরকান্দি এলাকায় অন্যের জমিতে খাজনা করে বসবাস করছেন। অভাব-অনটন, রোগ-ব্যাধি নিত্য সঙ্গী এই পরিবারের ৫ সন্তানের তৃতীয় ইশরাত জাহান আমেনা। এ বছর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পাচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে চমকে দিয়েছে সবাইকে। শ্রেণিতে ১৮ রোল ছিল আমেনার। অদম্য চেষ্টায় তার এই অর্জনের জন্য পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাই প্রধান বলে মনে করে মেধাবী এই শিক্ষার্থী।
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে লেখাপড়া করলেও উচ্চ শিক্ষার পথে অর্থ-কষ্ট বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার। স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তবে নিজে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবেন লক্ষ্যে পৌছাতে এমন দৃঢ় বাসনা রয়েছে মেধাবী ইশরাত জাহান আমেনার!
সরেজমিনে আমেনার বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে কাদা জমে যাওয়া পথ মাড়িয়ে আমেনাদের বাড়ির কাদাময় পিচ্ছিল উঠানে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের নানা কাজে অসুস্থ্য মাকে সহযোগিতা করছে সে। মাত্র একটি কক্ষের ঘরে গাদাগাদি করে রাখা আসবাবপত্রের ফাঁকে ছোট্ট পড়ার টেবিল। ভালো রেজাল্টের প্রসঙ্গ তুলতেই আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন মা জরিনা বেগমও।
তিনি বলেন,'আমরা নদী ভাঙা মানুষ। কৃষি কাজ করে জীবিবকা নির্বাহ করি। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আগে। আমি কিডনি রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে টানাটানির সংসার। তবে আমেনার লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ আছে। নিজের ইচ্ছায় সাইন্স নিয়া পড়েছে সে। ঠিকমত প্রাইভেট পড়াইতে পারি নাই।'
তিনি আরও বলেন,'আমার মেয়ে অনেকদূর পর্যন্ত পড়তে চায়। কতটুকু পারবো জানি না!'
জানতে চাইলে ইশরাত জাহান আমেনা বলেন,'নবম শ্রেণিতে আমার রোল ছিল ১২। দশম শ্রেণিতে যখন উঠি তখন রেজাল্ট খারাপ হয়। রোল হয় ১৮। রেজাল্ট দেয়ার পর বাড়ি আসলে আব্বা আমার রেজাল্ট দেখে ভীষণ মন খারাপ করে। আব্বার মলিন মুখ দেখে আমি অনেক কষ্ট পাই। এরপর আমার মধ্যে জেদ তৈরি হয়, আমাকে ভালো করতেই হবে! আমি চেষ্টা করতে থাকি। আমার স্কুলের স্যারেরাও বিশেষ করে গণিতের পবিত্র স্যার আমাকে সাপোর্ট দিতে থাকে। আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেক। চাইলেই চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না আমার বাবার। অন্যদিকে মা অসুস্থ্য। ঘরের রান্নাবান্না করেও আমাকে স্কুল করতে হয়েছে। আমি হাল ছাড়িনি।'
তিনি বলেন,'আমার স্বপ্ন ভালো কলেজে পড়া। ডাক্তার হওয়া। আমার বাবার তেমন সামর্থ্য নেই। তবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।'
ইশরাতের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন,'আমার মেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে। আমরা আনন্দিত। আমি কৃষি কাজ করে চলি। আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করবো মেয়ের লেখাপড়ার জন্য। আপনাদের কাছে দোয়া চাই।'
প্রতিবেশী মো.ফারুক বলেন,'এই পরিবারটি পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে খাজনা করে থাকছে। মেয়েটি বেশ মেধাবী। তবে ভালো কলেজে পড়ানোর সামর্থ ওর বাবার নাই। তারপরও চেষ্টা করবেন মেয়ের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়। এক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানেরা এগিয়ে এলে দরিদ্র মেধাবীদের জন্য অনেক উপকার হয়।'
পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মো.ইয়াসিন বলেন,'আমেনার প্রবল চেষ্টা ছিল ভালো করার। ওরা পদ্মার ভাঙনে ভূমিহীন পরিবার। আর্থিক সামর্থ্য নাই ভালো কলেজে পড়ানোর। আমেনার মতো মেধাবীদের পাশে বিত্তবানদের দাঁড়ানো উচিত।'
ইশরাত জাহান আমেনার স্কুল পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.শামসুল হক বলেন,'মেয়েটি নিঃসন্দেহে মেধাবী। তবে পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা মেয়েটিকে নানা সময়ে বাধাগ্রস্থ করেছে। এরপরও সে থেমে থাকেনি। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওর মা অসুস্থ্য থাকায় ঘরের রান্নাবান্না সহ আনুষঙ্গিক কাজও ওকে নিয়মিত করতে হয়। এরপর সে স্কুলে আসতো। তার অদম্য চেষ্টায় সে জিপিএ ৫ পেয়েছে। আর্থিক অনটন যে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার পথে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় এজন্য সমাজের বিত্তবানদের ওর মতো মেধাবীদের পাশে থাকা উচিত।'
তিনি আরও বলেন,'এবছর আমাদের স্কুল থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে ইশরাত জাহান আমেনা একজন অদম্য মেধাবী।'
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team