দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৪ এএম
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ এএম
নিজস্ব প্রতিবেদক, দক্ষিণের খবরঃ
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে নতুন মাত্রা পেয়েছে ঢাকা–ভাঙ্গা–খুলনা এক্সপ্রেসওয়ে। দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগের পাশাপাশি এখন এই মহাসড়ক পরিচিতি পেয়েছে এক ভিন্ন পরিচয়ে ফুলের মহাসড়ক হিসেবে। বর্ষা, বিশেষ করে শ্রাবণের বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভাজকজুড়ে ফুটে থাকা লাল, গোলাপি, সাদা, নীল, হলুদ ও বেগুনি রঙের বাহারি ফুল যেন পুরো পথকে রাঙিয়ে তুলেছে। প্রকৃতির এই অপরূপ সাজ প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে দিচ্ছে এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় প্রবেশ করতেই বদলে যায় পথচলার দৃশ্যপট। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ আর মাঝের বিভাজকজুড়ে ফুটে থাকা বাহারি ফুল যেন ব্যস্ত মহাসড়ককে রূপ দিয়েছে এক বিশাল ফুলের উদ্যানে। বিশেষ করে শিবচরের পাচ্চর, সূর্যনগর,কাঠালবাড়ী,মাদবরচর ও কুতুবপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ফুল ফুটেছে। কাঞ্চন, করবী,গন্ধরাজ, কুর্চি, রাধাচূড়া, জারুল, কামিনী, বেলি, সোনালু, কৃষ্ণচূড়াসহ নানা প্রজাতির ফুলে এখন মুখর পুরো মহাসড়ক।
গ্রীষ্মের পর বর্ষার মৃদুমন্দ বাতাসে ফুলের পাপড়ি উড়ে এসে পড়ছে চলন্ত গাড়ির ওপর।কখনো জানালা দিয়ে, কখনো বাতাসে ভেসে আসা ফুলের সুবাস যেন দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেয়। মহাসড়কের দুপাশে কৃষ্ণচূড়া, জলপাই, অর্জুন, কাঁঠাল, মেহগনি, শিশু, আকাশমণি, চালতা, নিম, একাশিয়া ও হরিতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সবুজের এক অপূর্ব আবহ সৃষ্টি করেছে।
ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানজট তৈরি হলে অনেক যাত্রী গাড়ির জানালা দিয়ে কিংবা নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে এসব মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। অনেকের কাছে এটি এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
মাদারীপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ শাহ আলম বলেন, 'ব্যবসার কাজে প্রায়ই এই সড়কে চলাচল করি। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ডিভাইডারে নানা প্রজাতির ফুল দেখে আমি মুগ্ধ। সুযোগ পেলেই গাড়ি থামিয়ে কয়েকটি ছবি তুলে রাখি। ফুল মানুষের মনকে আনন্দ দেয়। দীর্ঘ পথের ক্লান্তিও অনেকটা দূর হয়ে যায়।'
এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে নিয়মিত মোটরসাইকেলে যাতায়াতকারী ভাঙ্গা এলাকার ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, 'মাঝেমধ্যে মোটরসাইকেল থামিয়ে খুব কাছ থেকে ফুলের সৌরভ নিই।মনে হয় কারও মন খারাপ থাকলেও এই মহাসড়ক দিয়ে চলার সময় এমন দৃশ্য দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।'
শিবচরের কলেজ শিক্ষার্থী হাসান ফরাজি বলেন, 'শুধু যাত্রীদেরই নয়, আমাদেরও মন ভরে যায়। আমরা বন্ধুদের সঙ্গে মাঝে মাঝে ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলি। প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশ খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।'
সূর্য নগর এলাকার পথচারী সোহেল রানা বলেন,'এক্সপ্রেসওয়ের পুরো মহাসড়কে এখন ফুলের মেলায় পরিণত হয়েছে। এই সৌন্দর্যের কারণে আমাদের এলাকার গুরুত্বও বেড়েছে।'
শিবচরের পাঁচ্চর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক শাহিন আহমেদ বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই ফুলের বাগানের পাশ দিয়ে চলাচল করছি। একেক মৌসুমে একেক ধরনের ফুল ফোটে। প্রতিদিনই নতুন এক সৌন্দর্য আমাদের চোখে পড়ে।'
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শিবচর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, 'মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দুই পাশে এবং বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। এর ফলে শুধু সৌন্দর্যই বাড়েনি, পুরো এলাকাই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।এখানে দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।'
মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী,খ.ম. নকীবুল বারী বলেন, 'সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে নানারকম ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। সড়কের পরিবেশ ও যাত্রীদের মনোরম অভিজ্ঞতা তৈরির জন্য এগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়।মহাসড়কের বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছে একদিকে নানা বর্ণের ফুল সড়কের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। অপরদিকে বিপরীত দিক থেকে আসা হেড লাইটের আলো অন্য লেনের গাড়ির ওপর পড়ছে না।'
তিনি আরও বলেন,'দুর্ঘটনা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসব ফুল গাছ। আবার পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করছে।সড়ক সৌন্দর্য রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে নানাবিধি গাছ লাগানো হবে। এবং তা পরিচর্যা পর্যবেক্ষণ করার জন্য লোক নিয়োজিত আছে। তাছাড়া,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বিভাজক দখলমুক্ত রাখতেও এসব গাছ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।ভবিষ্যতে এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণ আরও জোরদার করতে ডিভাইডারের দুই পাশে রেলিং স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।'
শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, 'ফুল মানুষের মনকে পুলকিত করে। বিভাজকে ফুলের এমন সমারোহ মহাসড়ককে যেমন নান্দনিক করেছে, তেমনি দীর্ঘ যাত্রাকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলেছে। এই সৌন্দর্য যাতে কেউ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও নজরদারি করা হচ্ছে।'
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team