দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম
আপডেট: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম
আদালত চত্বরে স্বামীকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশায় ঘুরছিলেন এক নারী। কোলে ছিল মাত্র এক বছরের শিশু। সেখানেই পরিচয় হয় মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা ফারুক মোল্লার সঙ্গে। অভিযোগ রয়েছে, সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে নিজের এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরে তার সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অভিযোগ মায়ের মৃত্যুর পর সঙ্গে থাকা এক বছরের শিশুটিকে কান্না থামানোর কথা বলে কোলে তুলে নিয়ে একটি সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিশুটিরও মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পুরো বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদালত চত্বরে পরিচয়, এরপর কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত নারী শম্পা আক্তার তাঁর স্বামী একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে মুক্ত করার বিষয়ে আইনি সহায়তার আশায় আদালত প্রাঙ্গণে ঘোরাফেরা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল এক বছরের শিশুসন্তান।সেখানেই ফারুক মোল্লার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফারুক ওই নারীকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় নিয়ে যান।এরপরই ঘটনার মোড় নেয় ভয়াবহ দিকে।অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটির কী হয়েছিল?
ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক অংশ হিসেবে সামনে এসেছে এক বছরের শিশুটির বিষয়টি।অভিযোগ রয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটি ক্ষুধা ও আতঙ্কে কান্না করতে থাকে। আশপাশের মানুষের কাছে ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। পরে শিশুটিকে একটি সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।শিশুটির এমন করুণ পরিণতি স্থানীয়দের মধ্যেও গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
টাকার জন্যই কি এই হত্যাকাণ্ড?
ঘটনার পেছনে লুটপাট বা অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, নারীটির সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।তবে শুধু অর্থ বা অলংকার লুটের উদ্দেশ্যেই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
পুলিশের তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আদালত চত্বর থেকে ওই নারীকে কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না।পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার, এখন তদন্তের অপেক্ষাঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। এখন তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আদালত চত্বরে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় কীভাবে হয়েছিল?
সহযোগিতার কথা বলে তাঁকে কেন শিবচর এলাকায় নেওয়া হয়েছিল?
নারীকে হত্যার আগে বা পরে আর কেউ ঘটনাস্থলে ছিল কি না?
শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কী?
নিহত নারীর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার কোথায়?
ঘটনার পেছনে শুধু একজনের ভূমিকা ছিল, নাকি আরও কেউ জড়িত?
ঘটনাটির কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে তদন্তের অগ্রগতি ও উদ্ধার হওয়া আলামতের ওপর।
মামলা ও বিচার নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে নিহত নারীর স্বামী কারাগারে থাকলে তাঁর পক্ষে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালানোর সক্ষমতা কতটা থাকবে?
তবে আইনগতভাবে এমন গুরুতর অপরাধের বিচার কেবল পরিবারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে না। হত্যা, ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে এবং রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।তাই মামলাটি যেন প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের চাপে দুর্বল না হয়ে যায়, তদন্ত যেন নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয় এবং আদালতে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় এমন দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
একজন নারী ও তাঁর শিশুসন্তানের এমন করুণ পরিণতির অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করে আনতে হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি সত্যিই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করার আহ্বান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগ বা জনমতের চাপে নয় তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই আদালতে অপরাধ প্রমাণ করতে হবে।
যে প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত
ঘটনাটির ভয়াবহতা নিয়ে প্রশ্ন যতটা, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন একজন নারী ও তাঁর শিশুসন্তান কীভাবে এমন পরিস্থিতির শিকার হলেন?
আদালত প্রাঙ্গণে পরিচয় থেকে শুরু করে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া, নারী হত্যার অভিযোগ এবং পরে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পুরো ঘটনাপ্রবাহের প্রতিটি ধাপ এখন তদন্তের আওতায় আসা জরুরি।
নিহত নারী ও শিশুর পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটন, জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা শনাক্ত এবং আদালতে প্রমাণযোগ্য শক্ত তদন্তই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।নাকি শেষ পর্যন্ত ফারুক মোল্লার মতো অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে?
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team