দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ এএম
আপডেট: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ এএম
ইমতিয়াজ আহমেদঃ
বান্দরবানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে দিনে এসে ফিরে যাওয়া দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে নীলগিরি অন্যতম। পাহাড়চূড়ায় গড়ে তোলা দর্শনীয় স্থানটি নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নিয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় সকালে মেলে মেঘের হাতছানি। আর বর্ষায় হঠাৎ করেই পাহাড় মেঘে ছেয়ে গেলে বৃষ্টি আর মেঘ অন্যরকম এক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে স্থানটিতে। প্রাণ জুড়ানো ঠান্ডা বাতাস পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
জানা গেছে, বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরত্বের নীলগিরি জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত। শহর থেকে নীলগিরি আসতে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। নীলগিরি আসার পথে শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক পাহাড় দেখে থাকেন দর্শনার্থীরা। বান্দরবান শহর থেকে সকাল সাড়ে ৬ টায় নীলগিরির উদ্দেশ্যে রওনা হই একদল দর্শনার্থীদের সাথে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার কোথাও দেখা মেলে ঘন কুয়াশার মতো মেঘ। দূরে পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা সাদা মেঘের দেখাও মেলে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসী নারী-পুরুষের ব্যস্ততা। পাহাড়ে চাষ করা করলা, পেঁপে, মিস্টি কুমড়াসহ নানা রকম সবজি নিয়ে রাস্তার পাশে অপেক্ষা শহরে পাঠানোর জন্য। মাথায় ঝুড়ি বেঁধে পাহাড়ের ঢাল থেকে সবজি সংগ্রহে করে আনা, আগাছা পরিস্কারসহ চাষাবাদ নিয়ে ভোর থেকেই কর্মব্যস্ত দেখা যায় পাহাড়ি নারী-পুরুষদের। শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, ডাবলহ্যান্ড, টাইটানিক ভিউ পেরিয়ে প্রায় আড়াই ঘন্টা পথ শেষে নীলগিরি। পাহাড়চূড়ার অপূর্ব সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি।

নীলগিরির ক্যান্টিনে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা একদল দর্শনার্থীর সাথে। কলেজ পড়ুয়া তাবাসসুম তুবা বলেন,'নীলগিরি থেকে চারপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখা যায়। বর্ষায় মেঘ ছুঁয়ে যায় এখানে। চারপাশের প্রকৃতি অসাধারণ। এখানে ক্যান্টিনে বসে চা-কফি খেতে খেতে পাহাড়ের চমৎকার ভিউ পাওয়া যায়।'
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মো.আনোয়ার হোসেন বলেন,'বান্দরবান শহর থেকে সকাল সাড়ে ছয়টায় রওনা দিয়ে এখানে আসি। ভোরে পাহাড়ি পথে মেঘের দেখা মেলে। আর নীলগিরির চূড়া থেকে চারপাশের পাহাড় দেখা যায়। মাঝে মাঝেই ঠান্ডা হিম হাওয়া এসে গায়ে লাগে। বেশ ভালো লাগে।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক তরুনী বলেন,'নীলগিরির আসল সৌন্দর্য দেখতে বা উপভোগ করতে হলে এখানে এসে রাত্রিযাপন করা উচিত। বর্ষা মৌসুমে এখানে ২/১ দিন রাত্রি যাপন করলে প্রকৃতির সৌন্দর্যের অন্যরকম অনুভূতি আসে। পাহাড়ে রাত আসে অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে। তাছাড়া এখানটা বেশ নিরিবিল থাকে।'

কক্সবাজার থেকে আসা সাকিব বলেন,'পাহাড় সব সময়ই কাছে টানে! নীলগিরি তো একটা পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ের পুরো পথই দেখার মতো। আর নীলগিরিতে বসে চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য সহজেই চোখে পড়ে। সময় নিয়ে পাহাড় দেখার একটা বেস্ট জায়গা নীলগিড়ি! এখানে থাকা-খাওয়ার সকল ব্যবস্থা রয়েছে। খুব বেশি খরচ হয়না।'

এদিকে পর্যটকদের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় অসংখ্য আদিবাসী। পাহাড়ি রাস্তার পাশে ছোট দোকান ঘরে পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, জাম্বুরা, বাঁশ কোড়ল বিক্রি করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে তারা বলেন,'দর্শনার্থী বাড়লে বিক্রি বাড়ে। আয়-রোজগার মোটামুটি। কোনমতে চলে যায়।'
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মধ্যে পাহাড় একটি। পরিশ্রম করার শক্তি থাকলে পাহাড় ভ্রমন হতে পারে প্রকৃতির কাছাকাছি পৌছে যাওয়ার এক মাধ্যম। বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ হঠাৎ মেঘে ছেয়ে যাওয়া এবং এক পশলা বৃষ্টি এই সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। পাহাড়ি পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় মুহুর্তে। আর তাই অবসরে দলবেঁধে মানুষ ছুটে যায় পাহাড়ি এলাকায়।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team