দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
ডব্লিউএইচও
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
বুধবার জেনেভায় সংস্থাটির সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডব্লিউএইচও’র বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি।
তিনি বলেন, ইবোলা ভাইরাসের বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বিস্তার ঠেকাতে সম্ভাব্য দুটি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। তবে সেগুলো এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। টিকা তৈরি ও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ হতে অন্তত ৯ মাস সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ইবোলার উপসর্গ নিয়ে ১৩৯ জন মারা গেছেন এবং ৬০০ জনের মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
ড. ভাসি মূর্তি জানান, কঙ্গোতে উপসর্গ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫১ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও দুইজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ইতুরি ও উত্তর কিভু প্রদেশে আক্রান্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে উগান্ডার আক্রান্ত দুইজন রাজধানী কাম্পালার বাসিন্দা।
ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকির হলেও তা এখনো বৈশ্বিক মহামারি নয়।
এদিকে কঙ্গোতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণে ২ কোটি পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই অর্থ স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাতা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ভাইরাসটির ছয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে— জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। বর্তমানে কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের জন্য বুন্ডিবুগিও প্রজাতিকে দায়ী করা হচ্ছে।
ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্রসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সামগ্রী কিংবা মৃতদেহের সংস্পর্শ থেকেও ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে।
ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারুও ভাইরাস বহন করতে পারে।
ইবোলার প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, ফুসকুড়ি এবং পরবর্তী পর্যায়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ। এ কারণে রোগটিকে ‘হেমারেজিক ফিভার’ও বলা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ইবোলায় গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। কঙ্গোর সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে এ হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বর্তমানে কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত ২৪৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন মার্কিন নাগরিক আছেন, যাদের তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
সূত্র : বিবিসি
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team