দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৫ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
এইচডিইউ কী?
এইচডিইউ-এর পূর্ণরূপ হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট। রোগীর অবস্থা খুব খারাপ না হলেও স্বাভাবিকও নয়—অতিরিক্ত মনিটরিং দরকার হলে তাকে এইচডিইউ-তে নেওয়া হয়। ওয়ার্ড বা কেবিন এবং আইসিইউ-এর মাঝামাঝি পর্যায়ের যত্নই হলো এইচডিইউ।
রোগীর ভাইটালস—হার্ট রেট, রক্তচাপ, অক্সিজেন, কার্বন ডাই–অক্সাইড, এসিড–বেজ ব্যালান্স, লবণের মাত্রা, ইউরিন আউটপুট—এগুলো অস্বাভাবিক হলে বিশেষ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।
আইসিইউ কনসালটেন্ট ডা. আশরাফ জুয়েল জানান, ভাইটালস এলোমেলো হলে নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে রোগীকে লেভেল–১ বা লেভেল–২ কেয়ারে পাঠানো হয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জ্বর ইনফেকশন, টাইফয়েড বা সেপসিস থেকেও হতে পারে। জটিল কারণ হলে ভাইটালসের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তখন অবস্থা বুঝে রোগীকে এইচডিইউ বা ওয়ার্ডে রাখা হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রোগীকে কখন সিসিইউ-তে নেওয়া হয়?
সিসিইউ-এর পূর্ণরূপ করোনারি কেয়ার ইউনিট। হার্ট অ্যাটাক বা অ্যাকিউট করোনারি সিন্ড্রোমের মতো হৃদরোগজনিত জরুরি অবস্থায় রোগীকে সিসিইউ-তে রেফার করা হয়।
ডা. আশরাফ বলেন, এমন রোগী যাদের হৃদযন্ত্র যেকোনো সময় ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাদের সিসিইউ-তে নেওয়া হয়। তবে কিডনি, ফুসফুস বা ব্রেনসহ একাধিক অঙ্গের সাপোর্ট প্রয়োজন হলে রোগীকে আইসিইউ-তেও পাঠানো হতে পারে।
আইসিইউ কী?
আইসিইউ–এর পূর্ণরূপ ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট। একাধিক অঙ্গের সাপোর্ট প্রয়োজন হলে রোগীকে আইসিইউ-তে নেওয়া হয়। এইচডিইউ-তে থাকা অবস্থায় যদি অবনতি ঘটে—যেমন কিডনি ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে পৌঁছানো, ফুসফুস যথেষ্ট অক্সিজেন নিতে না পারা বা কার্বন ডাই–অক্সাইড বেড়ে যাওয়া—তাহলে আইসিইউ প্রয়োজন হয়।
রোগী সরাসরি কেবিন, ওয়ার্ড বা ইমার্জেন্সি থেকেও আইসিইউ-তে যেতে পারেন, যদি অবস্থা সংকটময় হয়।
বিশেষায়িত ইউনিট
এইচডিইউ বিভিন্নভাবে ভাগ করা থাকে—কার্ডিয়াক এইচডিইউ, মেডিকেল এইচডিইউ ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে আইসিইউ-তেও বিশেষায়িত ইউনিটের প্রচলন দেখা যাচ্ছে—সার্জিকাল, মেডিকেল, নিউরো, পেডিয়াট্রিক, নিওনেটাল, রেসপিরেটরি আইসিইউ। অনেক স্থানে লিভার আইসিইউ-ও চালু হচ্ছে।
সিসিইউ শুধু হৃদরোগীদের জন্য হওয়ায় এর আলাদা কোনো বিভাগ নেই।
ভেন্টিলেশন বা লাইফ সাপোর্ট
অত্যন্ত সংকটময় অবস্থায় শ্বাসযন্ত্র সচল রাখতে ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়, যাকে সাধারণভাবে ‘লাইফ সাপোর্ট’ বলা হয়। ফুসফুস অক্সিজেন নিতে না পারলে বা কার্বন ডাই–অক্সাইড বের করতে ব্যর্থ হলে এই সাপোর্ট দেওয়া হয়।
শ্বাসযন্ত্র কাজ না করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এটি দ্রুততম সাপোর্ট ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
লাইফ সাপোর্ট মানেই কি মৃত্যু?
অনেকের ধারণা, লাইফ সাপোর্ট নিলে আর ফেরা যায় না। ডা. আশরাফ বলেন, এটি ভুল ধারণা। ভেন্টিলেশন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, রোগীকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই এটি ব্যবহার করা হয়।
এই ভুল ধারনার পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেন তিনি—আর্থিক অক্ষমতা এবং আইসিইউ বেডের সংকট। অনেক সময় রোগীকে ‘টার্মিনাল স্টেজ’-এ আইসিইউ-তে পাঠানো হয়, ফলে ফেরার সম্ভাবনা কমে যায়। আবার অনেক সময় পরিবার কনসেন্ট দিতে দেরি করে।
ঢাকার একটি আইসিইউ–এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে গত এক বছরেই ৬০–৭০ শতাংশ রোগী আইসিইউ থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। এমনও ঘটেছে যে একজন রোগীকে তিনবার ভেন্টিলেশনে নিতে হয়েছে, তবুও তিনি ফিরে এসেছেন।
তবে যারা বয়স্ক বা যাদের একাধিক জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ফিরলেও আগের মতো জীবনমান নাও থাকতে পারে। একই রোগ হলেও রোগীর বয়স, জেনেটিক্স ও রোগ–ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team