দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ এএম
“মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন তো চলতেই পারে। আপনি যত দীর্ঘদিন বাঁচবেন, ততই তরুণ হয়ে উঠবেন, এমনকি অমরত্বও অর্জন করতে পারেন,” পুতিনের দোভাষীকে বলতে শোনা যায়।
এর জবাবে শি জিনপিংয়ের দোভাষী বলেন, “কেউ কেউ অনুমান করেন, এই শতাব্দীতেই মানুষ ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।”
খোলা মাইক্রোফোনে ধরা পড়া এই মুহূর্তটি ছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক বিরল ঝলক। দুইজনই একে অপরকে “সেরা বন্ধু” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরও সরে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
এই সপ্তাহে পুতিন আবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। রাশিয়া ও চীনের মধ্যে “প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা” চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে হবে এই সফর।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “সীমাহীন বন্ধুত্ব” বলেও উল্লেখ করেছে। তবে বাস্তবে এই সম্পর্ক অনেকটাই অসম এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চীন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গাবুয়েভ বলেন, “রাশিয়া পুরোপুরি চীনের প্রভাবে আছে এবং শর্ত নির্ধারণ করতে পারে চীন।”
চীন এখন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে মস্কো ক্রমশ বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, শিল্প—সবক্ষেত্রেই চীন এখন রাশিয়ার প্রধান নির্ভরতা।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর রাশিয়া তার যুদ্ধযন্ত্র চালাতে চীনা উপাদানের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ প্রযুক্তির ৯০ শতাংশের বেশি এখন চীন থেকে আমদানি করছে রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে এখন রাশিয়ার টেলিযোগাযোগ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে এই সম্পর্কের বৈষম্য নিয়ে রাশিয়ার মধ্যেও অস্বস্তি রয়েছে। রাশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি দিমিত্রি ট্রেনিন বলেন, রাশিয়া কোনোভাবেই “জুনিয়র অংশীদার” হতে চায় না।
তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক সমান ভিত্তিতে রাখতে হবে এবং মনে রাখতে হবে রাশিয়া একটি বৃহৎ শক্তি।”
তবে বাস্তবতা হলো, বেইজিংয়ের বাইরে মস্কোর কার্যকর বিকল্প খুব কম। চীন এমন একটি বাজার, যা রাশিয়ার অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মারচিন কাচমারস্কির মতে, চীনও এই অসমতা সম্পর্কে সচেতন এবং রাশিয়ার ভেতরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে চায় না।
তিনি বলেন, “চীন রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এর একটি কারণ হলো রাশিয়া তুলনামূলক দুর্বল হলেও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন একটি রাষ্ট্র। ফলে অতিরিক্ত চাপ দিলে মস্কো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে ২০২৩ সালে শি জিনপিংয়ের মস্কো সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। সে সময় শি নাকি পুতিনকে ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই রাশিয়া ঘোষণা দেয়, তারা বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল বাহ্যিক চাপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান জানানোর একটি ইঙ্গিত।
দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্বালানি সহযোগিতা। “পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২” পাইপলাইন নির্মাণ হলে মঙ্গোলিয়ার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহ করা হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি চীনের জন্য কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তবে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই নমনীয় কাঠামোই সম্পর্কটিকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।
সাবেক অস্ট্রেলীয় কূটনীতিক বোবো লো বলেন, “এটি কোনো জোট নয়, বরং একটি নমনীয় কৌশলগত অংশীদারিত্ব।”
তার মতে, পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হলেও একে অপরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে দুই দেশের। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের চার হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, অর্থনৈতিক পরিপূরকতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রতি যৌথ বিরোধিতা।
পশ্চিমা দেশগুলোর মতো মানবাধিকার ইস্যু নিয়েও তারা একে অপরকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে না। শিনজিয়াং, আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যু বা অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়েও দুই দেশ নীরব অবস্থান নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে চীন ও রাশিয়ার লক্ষ্য পুরোপুরি এক নয়। রাশিয়া এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাবে। অন্যদিকে চীন তুলনামূলকভাবে আরও সতর্ক এবং ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কৌশল অনুসরণ করে।
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বেইজিংয়ের সংযত অবস্থানকে এর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।
সম্পর্কের মানবিক দিক নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক চার্লস পার্টনের মতে, সাধারণ চীনা ও রাশিয়ানদের মধ্যে এখনো গভীর সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, “চীনারা কি মস্কোতে গিয়ে থাকতে চায়? না।”
তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, ইউরোপের কঠোর ভিসানীতি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা রাশিয়ানদের ক্রমেই চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এখন রাশিয়ানরা আগের চেয়ে বেশি চীনা ফোন ব্যবহার করছে, চীনা গাড়ি চালাচ্ছে এবং সহজ ভিসা ব্যবস্থার কারণে চীনে ভ্রমণও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই সম্পর্ক দ্রুত ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।
কারণ, পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশই মনে করে—সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মতো কার্যকর বিকল্প তাদের সামনে খুব বেশি নেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team