দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
Admin
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
তিনজনেই হিমাচলের হাটি সম্প্রদায়ের সদস্য। এই সম্প্রদায়ের বহু পুরনো এক বহুপতিত্ব প্রথা মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এই বিয়ে, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘জোড়িদারা’ বা ‘জাজড়া’ নামে।
সিরমৌরের ট্রান্স-গিরি অঞ্চলে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানে শত শত গ্রামবাসীর উপস্থিতি এবং ঐতিহ্যবাহী গান, নাচ, ও খাবারের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথা, সম্মতি ও পরিচয়
বিয়েতে পাত্র-পাত্রীরা জানিয়েছেন, এই সম্পর্ক তাদের পূর্ণ সম্মতিতেই হয়েছে। কনে সুনিতা বলেন, “এটা আমার নিজের সিদ্ধান্ত ছিল। আমি এই প্রথা সম্পর্কে জানতাম এবং সম্মান করেই তাতে অংশ নিয়েছি।”
প্রদীপ নেগি একজন সরকারি কর্মচারী, আর কপিল নেগি বিদেশে হসপিটালিটি সেক্টরে কাজ করেন। ত্রিপাক্ষিক এই বিয়েতে বিশ্বাস, দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গাটিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
কী এই জোড়িদারা প্রথা?
হাটি সম্প্রদায়ের এই প্রথা অনুযায়ী, এক নারী একই পরিবারের একাধিক ভাইকে বিয়ে করতে পারেন। উদ্দেশ্য—সম্পত্তির বিভাজন ঠেকানো, পারিবারিক ঐক্য রক্ষা এবং যৌতুক এড়ানো।
এই প্রথা শুধু সিরমৌর নয়, হিমাচলের সিমলা, কিন্নর ও লাহুল-স্পিতির কিছু অংশ এবং উত্তরাখণ্ডের জৌনসার-বাওয়ার অঞ্চলেও প্রচলিত। অনেকেই এটিকে ‘দ্রৌপদী প্রথা’ বলেও চেনেন, মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে।
বিয়ে প্রথায় কিছু ভিন্নতা
‘সিঞ্জ’ নামের একটি ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনে বিয়ে হয়, যেখানে সাতপাকের পরিবর্তে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে পাত্র-পাত্রীরা প্রতিশ্রুতি দেন। এই বিয়েতে মেয়ের বাড়ি থেকে কন্যাযাত্রা যায় বরপক্ষের বাড়িতে।
আইন ও বিতর্ক
হিমাচলের একাধিক অঞ্চলে ‘ওয়াজিব-উল-আরজ’ নামের ঔপনিবেশিক যুগের রেকর্ডে এই প্রথার উল্লেখ রয়েছে। তবে হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী একাধিক বিয়ে বৈধ নয়।
হাইকোর্টের আইনজীবী সুশীল গৌতমের মতে, যেহেতু এই বিয়ে তিনজনের সম্মতিতে একসঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, তাই প্রচলিত আইন এক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবু, আইনি স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।
সমালোচনাও আছে
নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই প্রথাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ওমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের মরিয়ম ধাওয়ালে বলেন, “এই প্রথা নারীদের পছন্দ ও অধিকারের পরিপন্থী।”
সিপিআই (এম) নেতা ও আইনজীবীরা এটিকে আইন ও সংবিধানবিরোধী বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে হিমাচলের মন্ত্রী হর্ষবর্ধন চৌহান বলছেন, “এটা আমাদের ঐতিহ্য এবং এর পেছনে ঐক্য ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্য রয়েছে।”
হাটি সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক পটভূমি
হাটি সম্প্রদায় সিরমৌরের ট্রান্স-গিরি অঞ্চল ছাড়াও উত্তরাখণ্ডে বসবাস করে। তাদের জনসংখ্যা আনুমানিক ২.৫ থেকে ৩ লাখ।
এই সম্প্রদায়ের নাম এসেছে ‘হাট’ বা অস্থায়ী বাজার থেকে, যেখানে তারা পণ্য বেচাকেনা করতেন। উত্তরাখণ্ডে এই সম্প্রদায় তফসিলি জনজাতি (এসটি) স্বীকৃতি পেলেও হিমাচলে তা বিতর্কিত।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হিমাচল হাইকোর্ট তফসিলি জনজাতি স্বীকৃতির ওপর স্থগিতাদেশ দেয়—সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে এই যুক্তিতে।
সময়ের সঙ্গে বদল
সময়ের সাথে সাথে ‘জোড়িদারা’ প্রথার প্রচলন কমে গেছে। সমাজকর্মী রমেশ সিংতা বলেন, “এখন খুব কম পরিবারই এই প্রথা অনুসরণ করে এবং বেশিরভাগ বিয়েই হয় ব্যক্তিগতভাবে, ধুমধাম ছাড়াই।”
তবে সাম্প্রতিক এই বিয়েটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে। প্রথা, সংস্কৃতি, অধিকার ও আইনের সংঘাতে দাঁড়িয়ে থাকা এই ঘটনাটি আজ শুধুই একটি বিয়ে নয়—বরং ভারতীয় সমাজের বহুস্তরীয় বাস্তবতার একটি প্রতিফলন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team