দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা এই কারাগারকে “নরকের মতো” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি কিছু বিচারকও সেখানে দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এটি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি), যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দক্ষিণ আমেরিকায় এটি ছিল অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক অভিযান।
আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদুরোকে প্রথমে আকাশপথে ইউএসএস ইয়ু জিমা জাহাজে, এরপর কিউবার গুয়ানতানামো নৌঘাঁটিতে এবং সবশেষে আরেকটি বিমানে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “তোমরা তো শুভরাত্রীকে ‘বুয়েনাস নোচেস’ বলো, তাই না? গুড নাইট! হ্যাপি নিউ ইয়ার!”
ভিডিওতে তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দুইজন মাদকবিরোধী এজেন্টের পাহারায় হাঁটতে দেখা যায়। তার পরনে ছিল স্পোর্টস জ্যাকেট, মাথায় কালো টুপি এবং পায়ে মোজা পরা স্যান্ডেল।
হুগো চ্যাভেজের উত্তরসূরি মাদুরোকে প্রথমে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ)-এর সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের একটি কক্ষে রাখা হয়।
মাদক পাচার ও নার্কো-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারকালীন সময় পর্যন্ত তাকে এই আটককেন্দ্রেই রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও একই আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
একটি উল্লম্ব কারাগার: মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারটি কংক্রিট ও স্টিলের তৈরি একটি বিশাল বহুতল ভবন। এর অবস্থান ব্রুকলিনে, নিউইয়র্কের সমুদ্রবন্দর থেকে কয়েক মিটার দূরে। ফিফথ অ্যাভিনিউ, সেন্ট্রাল পার্কসহ শহরের অন্যান্য পরিচিত স্থাপনা থেকে এর দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার।
নিউইয়র্ক শহরের দীর্ঘদিনের কারাগার সংকট ও অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এই কারাগারটি চালু করা হয়। এটি এমন একটি জায়গায় নির্মিত, যেখানে আগে সমুদ্রবন্দরের টার্মিনালে নোঙর করা জাহাজ থেকে আসা পণ্য রাখা ও পরিবহনের স্থাপনা ছিল।
ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস (বিওপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের আদালতে বিচারাধীন নারী ও পুরুষ আসামিদের রাখাই ছিল এই কারাগারের মূল উদ্দেশ্য। স্বল্পমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদেরও এখানে রাখা হয়।
বর্তমানে নিউইয়র্কে বিওপি পরিচালিত একমাত্র কারাগার এটি। ২০১৯ সালে একটি আত্মহত্যার ঘটনার পর ২০২১ সালে ম্যানহাটনের অনুরূপ একটি কারাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় মার্কিন ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।
কারাগারটি প্রসিকিউটরের দপ্তর এবং দুটি ফেডারেল আদালতের মাঝখানে অবস্থিত। ভেতরে সংযুক্ত করিডোর রয়েছে, যার মাধ্যমে আসামিদের জনসম্মুখে না এনে আদালতে নেওয়া যায়। পুরো কমপ্লেক্সটি ইস্পাতের ব্যারিকেডে ঘেরা এবং উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থায় সজ্জিত।
‘নরকের মতো অবস্থা’: লাতিন আমেরিকার অনেক কারাগারের মতোই ব্রুকলিনের এমডিসিতেও অতিরিক্ত বন্দি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সহিংসতা নিয়মিত সমস্যা।
এক হাজার বন্দির ধারণক্ষমতার এই কারাগারে ২০১৯ সালে প্রায় ১,৬০০ বন্দিকে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এখানে ১,৩৩৬ জন বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিওপি। এছাড়া কারাগারটি গত কয়েক বছর ধরে মাত্র ৫৫ শতাংশ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত বন্দি ও জনবল সংকটের কারণে ভেতরে নিয়মিত সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ভবনটির ভৌত অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ২০১৯ সালে একটি বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে শীতের মধ্যে কয়েক দিন বন্দিদের গরম ছাড়াই থাকতে হয়।
সে সময় নিউইয়র্কের তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস কারাগারের পরিস্থিতিকে “অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক” বলে মন্তব্য করেন এবং ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আইনজীবী এডউইন করদেরো কারাগারটিকে “পৃথিবীতেই নরকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি” হিসেবে বর্ণনা করেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুনে তার এক মক্কেল অন্য বন্দিদের হামলায় নিহত হন।
২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত চারজন বন্দির আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে মনে করা হয়। এই অবস্থার কারণে কিছু বিচারক সেখানে আর দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে চান না।
অন্যান্য আলোচিত বন্দি: এমডিসিতে এর আগেও বহু প্রভাবশালী ও আলোচিত বন্দিকে রাখা হয়েছে। হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ তিন বছরের বেশি সময় এখানে বন্দি ছিলেন। মেক্সিকোর সাবেক জননিরাপত্তা সচিব জেনারো গার্সিয়া লুনা এবং মাদক সম্রাট হোয়াকিন “এল চাপো” গুজমানও এখানে আটক ছিলেন।
এ ছাড়া সিনালোয়া কার্টেলের নেতা ইসমাইল “এল মায়ো” জামবাডা, জন গট্টি, আল-কায়েদার কয়েকজন সদস্য, র্যাপার শন “ডিডি” কম্বস, ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল, স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড এবং মাইকেল কোহেনও এই কারাগারের আলোচিত বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team