দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
বাংলাদেশের কাছেই রয়েছে এমন একটি দেশ—জাপান—যেখানে ভূমিকম্প নিত্যদিনের ঘটনা। বছরে প্রায় দেড় হাজার ভূমিকম্প হয় সেখানে, সুনামির সতর্কতাও দেওয়া হয় নিয়মিত। ভবন নির্মাণ থেকে নাগরিক প্রস্তুতি—ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশটি বিশ্বে অন্যতম অগ্রগামী।
জাপানে ভূমিকম্প বেশি হয় কেন
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত, যেখানে ইউরেশিয়ান, ফিলিপাইন ও প্যাসিফিক—তিনটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল হওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অনেক ছোট কম্পন মানুষ টেরও পায় না; মাঝারি ভূমিকম্প স্বাভাবিক ঘটনা। তবে বড় ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতাও তাদের রয়েছে।
বাংলাদেশ কী শিখতে পারে
বাংলাদেশে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি থাকলেও ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সেই সচেতনতা ও প্রস্তুতি নেই। সাধারণ আলোচনায় ভূমিকম্প মানে কেবল ঝাঁকুনির অভিজ্ঞতা—এর বাইরে ধারণা সীমিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ূন আখতার বলেন, ২১শে নভেম্বরের ভূমিকম্প যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, জাপানে সাধারণ নাগরিকরা তেমন ভয় পান না। কারণ সেখানে সচেতনতা ও প্রস্তুতি গড়ে ওঠে অল্প বয়স থেকেই।
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব জানান, জাপানে শিশুরা জন্মের পর থেকেই ভূমিকম্প বিষয়ে শেখে। স্কুলে নিয়মিত মহড়া হয়—ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া, ভূমিকম্পের পর নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার অনুশীলন। সাধারণত ১৫ দিন পরপর এ ধরনের ড্রিল করা হয়।
জাপানে পার্ক বা খেলার মাঠের মতো নিকটবর্তী নিরাপদ জায়গা সম্পর্কে সবাই অবগত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও এ ধরনের নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অবকাঠামোগত নিরাপত্তা
জাপানের বড় শহরগুলোর উঁচু ভবন এমনভাবে নকশা করা হয় যাতে ভূমিকম্পের সময় সেগুলো rigid না থেকে দুলতে পারে—যা ভবনকে নিরাপদ করে। বাংলাদেশেও উচ্চ ভবনগুলো সাধারণত কোড মেনে নির্মিত হলেও ছোট, ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলোতে নিয়ম বহুলাংশেই মানা হয় না। ইকবাল হাবিবের মতে, এসব ভবনই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানের মতো অবকাঠামোগত নিরাপত্তা কার্যকর করা এবং পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বা রেজিলিয়েন্স প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানের উচ্চ ভবন কীভাবে টিকে থাকে
জাপানের ভবনগুলো স্থিতিস্থাপক—আঘাত বা চাপের পর কিছুটা সরে আবার আগের অবস্থায় ফেরার ক্ষমতা রাখে। এ স্থিতিস্থাপকতার মূল রহস্য ভূমিকম্পের শক্তি শোষণ বা প্রতিরোধে থাকা প্রযুক্তিতে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জুন সাতো বলেন, জাপানে সব ভবন—ছোট বা অস্থায়ী—ভূমিকম্প-সহনশীল হতে হয়।
ভবন নকশায় দুটি স্তর বিবেচনা করা হয়—
১. স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প—যাতে কোনো ক্ষতি হওয়া উচিত নয়।
২. ভয়াবহ ভূমিকম্প—যেমন ১৯২৩ সালের ৭.৯ মাত্রার গ্রেট কান্তো ভূমিকম্প। এমন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য থাকে প্রাণহানি রোধ করা।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ জিগি লুবকোভস্কি বলেন, ভবন নকশায় প্রধান লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা।
ভূমিকম্প সহনশীলতায় সিসমিক আইসোলেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবনের ভিত্তিতে বিশেষ বিয়ারিং বা শক অ্যাবজরবার বসানো হয়, অনেক সময় ৩০–৫০ সেমি পুরু রাবার ব্লক। এর ফলে ভূমিকম্পের শক্তি ভবনে পৌঁছানোর আগে শোষিত হয়।
এ ছাড়া মোশন ড্যাম্পার ও মেশ স্ট্রাকচার ব্যবহার করা হয়। তরলভিত্তিক ড্যাম্পারগুলো ভবনের নড়াচড়া কমায়, আর মেশ স্ট্রাকচার সাপোর্টগুলোকে বাঁকানো থেকে রক্ষা করে।
এই প্রযুক্তি ও নকশার ফলে জাপানিরা নিয়মিত ভূমিকম্পের মধ্যেও নিরাপদে বসবাস করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের আর্থ–সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় জাপানের মতো উন্নত প্রযুক্তি নয়, বরং—
* নিয়মিত মহড়া
* সচেতনতা বৃদ্ধি
* নিরাপদ খোলা জায়গা নিশ্চিত
* ভবন নির্মাণে আইন-কানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ
—এসবকেই এখন অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এসব নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team