দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
কে এম জয়নুল আবেদীন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংক এই চুক্তিগুলিকে একটি বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে মূল্যায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে উভয়পক্ষের সুবিধা, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এবং একই সঙ্গে কিছু উদ্বেগ ও দ্বিধার বিষয়ও। সমর্থনমূলক বিশ্লেষণগুলিতে বলা হয়, এই চুক্তিগুলো কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলেছে। বিশেষত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে শক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, উদ্ভাবন এবং উচ্চ প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে, যা অঞ্চলভিত্তিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন অনেক গবেষক।
অন্যদিকে, বহু নীতি-গবেষণা কেন্দ্র সতর্ক করে বলছে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে অর্থবহ অগ্রগতি ছাড়া এমন স্বাভাবিকীকরণ দীর্ঘদিনের আরব—ইসরায়েল কূটনীতিতে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। বহু গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে দীর্ঘদিন ধরে আরব দেশগুলোর কূটনৈতিক স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সমাধানের সঙ্গে যুক্ত ছিল; সেই যোগসূত্র দুর্বল হয়ে পড়ায় বিভিন্ন মুসলিম-প্রধান সমাজে জনমত ও নাগরিক সংগঠনগুলোতে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি হয়েছে। গবেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সহযোগিতা এগোলেও বহু দেশের গণমানুষ এখনও ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক সহমর্মিতায় অটল—এটি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বাস্তব বিবেচ্য বিষয়।
আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া সেই বৈচিত্র্য ও বাস্তবতার প্রতিফলন। আফ্রিকার কিছু রাষ্ট্র, যারা স্বাভাবিকীকরণের দিকে এগিয়েছে, তারা বিষয়টিকে দেখে বাস্তববাদের চোখে—অর্থনৈতিক সুযোগ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং কূটনৈতিক সুবিধার অংশ হিসেবে। অপরদিকে আলজেরিয়া বা তিউনিসিয়ার মতো রাষ্ট্র, কিংবা দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে ঐতিহাসিক নৈতিক অবস্থান হিসেবে ধরে রেখেছে এবং জনমতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে। থিঙ্ক ট্যাংক গবেষণায় এও দেখা যায়, বাস্তব রাজনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের আবেগগত অবস্থানের মধ্যকার টানাপোড়েনই এই বৈচিত্র্যের মূল কারণ।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত গবেষণাগুলো এ চুক্তির আরেকটি দিক তুলে ধরে—অঞ্চলীয় অস্থিরতা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ। কিছু মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্র মনে করে, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তাদের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে গবেষকেরা একই সঙ্গে সাবধান করে বলেন, এই সহযোগিতা কিছু রাষ্ট্রে নতুন নিরাপত্তা সংশয়ও তৈরি করতে পারে। তাই এমন সহযোগিতা যাতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম না দেয়, সে জন্য প্রয়োজন সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং আস্থা তৈরির উদ্যোগ।
বহু গবেষণাপত্র আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টার আলোতে দেখার আহ্বান জানায়। ইতিহাস বলছে, কেবল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা কূটনৈতিক নথি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না—এর জন্য প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা এবং বহুপাক্ষিক সংলাপ। তাই গবেষকেরা বলেন, রাষ্ট্রীয় চুক্তির পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, ব্যবসা এবং নাগরিক পর্যায়ের বিনিময় কর্মসূচি শক্তিশালী হলে চুক্তিগুলোর ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত, অধিকাংশ থিঙ্ক ট্যাংকই একমত—আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং তা মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির একটি নতুন অধ্যায়। এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নির্ভর করবে বহু বিষয়ের উপর—ফিলিস্তিন ইস্যুতে অগ্রগতি, আঞ্চলিক সংকট, বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা। তাই গবেষণার সারমর্ম হলো, ইতিবাচক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো যতটা সম্ভব এগিয়ে নিতে হবে, একই সঙ্গে ইতিহাস, ন্যায়বিচার এবং আঞ্চলিক অনুভূতিগুলোকে বিবেচনায় রেখে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের দিকে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এভাবে স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে শক্তিশালী করতে পারে—এমনই মত আন্তর্জাতিক গবেষণা মহলের।
লেখক: প্রকৌশলী
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team