দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
কে এম জয়নুল আবেদীন
প্রকাশ: শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
বিশেষ করে গ্লোবাল নর্থ ও গ্লোবাল সাউথের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ ও ভয় আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্লোবাল নর্থের একটি প্রচলিত ধারণা হলো—কিছু দেশ নাকি “ঢাল” হয়ে পুরো বিশ্বকে রক্ষা করছে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দক্ষিণের দেশগুলোর অনিশ্চয়তা থেকে। এই ধারণা শুনতে সহজ হলেও বাস্তবতা এত সরল নয়।
বিশ্বের নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শান্তি বিশ্লেষকরা বারবার বলেছেন—শুধু অস্ত্র, সামরিক শক্তি বা একপাক্ষিক জোট দিয়ে শান্তি আনা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, যুদ্ধের মূল কারণ কোনো জাতি বা সংস্কৃতি নয়। বরং দীর্ঘদিনের অবিচার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক অধিকার না থাকা, দারিদ্র্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের অসম প্রয়োগই সংঘাতের মূল কারন। কিন্তু এসব বিষয় আড়াল করে পুরো অঞ্চলকে “হুমকি” হিসেবে দেখানো হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়ে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জীবনে যন্ত্রণা অগণিতভাবে বাড়ে, এবং শান্তির সম্ভাবনা দূরে সরে যায়।
এই ধরনের চিন্তাভাবনা শক্তিশালী দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। যুদ্ধ তখন দূরের ঘটনা মনে হয়, আর নিহত মানুষ কেবল সংখ্যায় পরিণত হয়। অথচ বাস্তবতা হলো—যুদ্ধ ও দমন-পীড়ন কখনো স্থায়ী শান্তি আনে না। বরং এতে ঘৃণা বাড়ে, প্রতিশোধের পথ তৈরি হয়, যা একসময় সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বকেই অস্থির করে তোলে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে।
আজকের গ্লোবাল সাউথ আর নীরব দর্শক নয়। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, আঞ্চলিক সমাধানের পথ খুঁজছে এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে ন্যায্য অংশগ্রহণ ও সম্মানের দাবি তুলছে। তারা প্রশ্ন তুলছে—বিশ্বের নিয়ম কি কেবল শক্তিশালীদের জন্য, নাকি সবার জন্য সমান? এই দাবি কোনো বিশৃঙ্খলার ডাক নয়; বরং এটি ন্যায্য ও মানবিক বিশ্বব্যবস্থার আহ্বান।
এই অস্থিরতার মাঝেও আশার আলো আছে। উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিকেই শান্তিকামী মানুষ রয়েছেন। সমাজকর্মী, তরুণ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকেরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, মানুষের মধ্যে সংলাপ গড়ে তুলছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ভয় কমায়, বিভাজন ভাঙে এবং সহিংসতার বিকল্প পথ দেখায়। তারা হয়তো বড় শক্তি নয়, কিন্তু শান্তির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শক্তি তাদেরাই।
২০২৬ সালের জন্য আমাদের ভাবনা হওয়া উচিত—নিরাপত্তা মানে কী? নিরাপত্তা কি শুধু অস্ত্র আর সেনাবাহিনী? নাকি নিরাপত্তা মানে খাদ্যের নিশ্চয়তা, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, ন্যায়বিচার এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার? আজ বিশ্ব ক্রমেই বুঝতে পারছে, মানুষের এই মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে কোনো দেশই সত্যিকারের নিরাপদ থাকতে পারে না।
নতুন বছরে বিশ্বশান্তির পথে এগোতে হলে আমাদের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। পৃথিবীকে “রক্ষক” ও “হুমকি”-তে ভাগ করা বন্ধ করতে হবে। সব মানুষের জীবনকে সমান মূল্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের দাবি তুলতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য দিয়েছে, এখন নাগরিক সমাজ ও শান্তিকামী মানুষের দায়িত্ব সেই তথ্যকে জনসচেতনতায় রূপ দেওয়া।
বিশ্বের শান্তিকামী মানুষদের একসঙ্গে কাজ করা ছাড়া ২০২৬ সালের জন্য আশা বাস্তবায়িত হবে না। শান্তি কোনো দুর্বল স্বপ্ন নয়; এটি সাহসের পরিচয়। ভয় নয়, মানবিকতাই হোক আমাদের পথনির্দেশক। একসাথে এগোলে, বিশ্ব সংঘাত কমানোর নয়—সংঘাত প্রতিরোধের পথে হাঁটতে পারে। যৌথ শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারই হতে পারে নতুন বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং মানবজাতির জন্য সত্যিকারের আশা।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team