দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
কে এম জয়নুল আবেদীন
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩০ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
বাংলাদেশকে হতে হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী রাষ্ট্র, পরাধীন বা চাপের শিকার নয়। বছর ধরে, কৌশলগত অঞ্চলে ছোট দেশগুলো মহাশক্তির চাপের মধ্যে পড়েছে, প্রায়শই স্বায়ত্তশাসন হ্রাস করতে হয়েছে। বাংলাদেশ সেই পথ অবলম্বন করতে পারবে না। আমাদের জাতীয় স্বার্থ—অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ভূ-সীমার অখণ্ডতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা—এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়া সব সময়ে দেশের অগ্রাধিকার হতে হবে, অন্যের এজেন্ডার চাপে নয়। এর অর্থ হলো প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা।
একটি মূল কৌশল হলো সুষম কূটনীতি। বাংলাদেশ ভারতের এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে, পাশাপাশি উত্থানশীল শক্তি যেমন চীনের কাছে কৌশলগতভাবে নিকটবর্তী। এছাড়া বঙ্গোপসাগর বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পদের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশকে বহু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং কোনো এক পক্ষের ওপর নির্ভরশীল হতে পারবে না। SAARC, BIMSTEC, এবং বঙ্গোপসাগর উদ্যোগের মতো আঞ্চলিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সহযোগিতামূলক সমাধান নিশ্চিত করতে সহায়ক। এছাড়াও, সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও জলবায়ু নেতৃত্বের মাধ্যমে নরম শক্তি ব্যবহার করে সংঘাত ছাড়াই কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করা সম্ভব।
অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে তার নৌ ও কোস্ট গার্ড ক্ষমতা আধুনিকীকরণ করতে হবে, যাতে স্বশাসিত জলসীমা, অর্থনৈতিক এলাকা এবং জলযান রুট সুরক্ষিত থাকে। বন্দর, নদীমুখ ও সামুদ্রিক অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ কেবল প্রতিরক্ষা নয়, এটি কৌশলগত লিভারেজ হিসেবেও কাজ করে। গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অবস্থান দৃঢ় করতে সহায়ক। সমস্ত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশীয় সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্বায়ত্তশাসন হ্রাস এড়ানো।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে। স্বচ্ছ প্রশাসন, যোগ্যতা-ভিত্তিক নীতি গ্রহণ এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রসংস্থা হলো বাহ্যিক প্রভাব প্রতিহত করার ভিত্তি। কৌশলগত চিন্তাশীল কেন্দ্র, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও দূরদৃষ্টি ব্যবস্থা ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ পূর্বাভাস ও নীতিনির্ধারণে সহায়ক। পাশাপাশি মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্পে বিনিয়োগ দেশের আভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল নয়, উদ্যোগী রাষ্ট্র হিসেবে রূপান্তর করবে।
ভূগোল, যা দীর্ঘদিন একটি দুর্বলতা মনে করা হতো, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কৌশলগত সম্পদে পরিণত হতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান, নদীমুখ ও বঙ্গোপসাগরের প্রবেশপথ বাংলাদেশের কৌশলগত লিভারেজ। এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখা সম্ভব।
সবশেষে, জাতীয় ঐক্য ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিঅপরিহার্য। দেশীয় সংহতি ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন টেকসই নয়। সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে একক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমন্বয় জরুরি। শিক্ষা, অবকাঠামো ও শিল্পে কৌশলগত বিনিয়োগ নিশ্চিত করে, বাংলাদেশ নিজের শর্তে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
উপসংহারে, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের দৃষ্টি ক্রমবর্ধমানভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে, এবং আমাদের দেশে নিষ্ক্রিয় থাকা অতীব বিপজ্জনক। সম্মান, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করতে হবে, বাহ্যিক প্রভাবের প্রতিপালক নয়। নীতি ও কর্মকৌশলে নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগত ভূগোলের সদ্ব্যবহার, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করে, বাংলাদেশ একটি সম্মানিত, স্বাধীন এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবে।তবে তা করতে হবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশপ্রেমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে।
লেখক: প্রকৌশলী
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team