দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
কে এম জয়নুল আবেদীন
প্রকাশ: রবিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৮ পিএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
তাজিকিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি, মিয়ানমারে সামরিক অবকাঠামো, অস্ত্র সরবরাহ, জ্বালানি সহযোগিতা ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে রাশিয়া তার উপস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ভিত্তিতে রূপ দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো যৌথ RIC (রাশিয়া–ভারত–চীন) পরিকল্পনার অংশ নয়; বরং রাশিয়ার স্বার্থসিদ্ধ স্বাধীন কৌশল, যেখানে পশ্চিমাদের প্রভাব কমে যাওয়া এবং চীনের একক আধিপত্য প্রতিরোধের সুযোগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চীনের কৌশলগত প্রভাবও সমানভাবে বিস্তৃত, তবে রাশিয়া ও চীনের স্বার্থ সবসময় এক নয়। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে চীন পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে বন্দর, সড়ক, রেলপথ এবং জ্বালানি অবকাঠামো তৈরি করে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও রাজনীতিকে নিজের প্রভাব বলয়ে আনছে। দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভারত মহাসাগরে নৌ উপস্থিতি বাড়িয়ে চীন ভবিষ্যতের সামুদ্রিক শক্তি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চাইছে।
ভারত এই সমীকরণে অবস্থান করছে ‘কৌশলগত স্বাধীকার’-এর নীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কোয়াডের মাধ্যমে ভারত তার সামুদ্রিক ও নিরাপত্তা প্রভাব বাড়াচ্ছে; একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং চীনের উত্থানের মোকাবিলা করছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের মতে, ভারত চায় বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উঠে আসতে—কিন্তু কারো সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নয়, বরং স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে। তাই আয়নি বেস থেকে সরে আসা ভারতের সামগ্রিক কৌশলগত হিসাবের অংশ বলেই বিবেচিত হচ্ছে, কারণ আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর—এই চারটি এলাকায় ভারতকে সমানভাবে সক্রিয় থাকতে হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার Indo-Pacific কৌশলের অংশ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে চুক্তি শক্তিশালী করে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যে, চীনের সামুদ্রিক প্রভাব একচ্ছত্র হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক জোট গড়ে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক বিকল্পও তৈরি করতে আগ্রহী।
এই নতুন শক্তি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতি, এবং বঙ্গোপসাগরের নৌ-পথ নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। রাশিয়ার মিয়ানমারে সক্রিয়তা, চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগ, ভারতের আঞ্চলিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক কৌশল—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে যেমন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও বেড়েছে।
বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রথমত, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর করা। দ্বিতীয়ত, বঙ্গোপসাগরে নৌ-নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ব্লু ইকোনমির সুযোগ সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা। তৃতীয়ত, BIMSTEC, IORA এবং আসিয়ান ডায়ালগের মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে। চতুর্থত, অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পে একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যপূর্ণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এবং পঞ্চমত, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ শক্তি-ভিত্তি আরও মজবুত করতে হবে।
সার্বিকভাবে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আর ‘দ্বিতীয় সারির অঞ্চল’ নয়; এটি এখন বৈশ্বিক শক্তি প্রতিযোগিতার প্রধান মঞ্চ। রাশিয়ার সম্প্রসারণ, চীনের প্রভাব, ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের Indo-Pacific নীতি—সব মিলিয়ে অঞ্চলে একটি নতুন বহু-মেরুকেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকে দক্ষতা, দূরদৃষ্টি ও কৌশলগত সক্রিয়তার মাধ্যমে তার সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team